ময়নামতী

কলমে – মধুমিতা দেব

 

ময়নামতী ময়নামতী লক্ষীমন্ত মেয়ে,

ময়নামতীর রং যে কালো (তাই ) দেখে না কেউ চেয়ে।

দিন কেটে যায় অবহেলায়, অপমানের ভীড়ে,

কেউ বোঝে না, দেহের মাঝে (তার) মন যে কমল হীরে।

ময়নামতী ফর্সা হল, সেই দিন সেই ক্ষণে,

শ্বশুরবাড়ি গেল যেদিন, বাপের দেওয়া ধনে।

স্বামীর রংটা চাপা হলেও, আছে অনেক টাকা,

কি আর হবে, সোনার আংটি,হয় যদি গো বাঁকা।

ফুরিয়ে গেল বাপের টাকা, কাটলে কয়েক মাস,

গাঁটছড়াটা ময়নামতীর গলায় বাঁধল ফাঁস।

ফাঁস খুলতে গেল ময়না, আবার বাপের বাড়ী,

সমাজের ঐ রক্তচক্ষু পড়ল এবার ভারি।

শ্বশুর বাড়ি, বাপের বাড়ি,নেই তো নিজের ঘর,

মানিয়ে চলা শিখতে হবে,নয়তো সবাই পর।

শ্বশুর বাড়ির বিষ ছোঁবলে, জীবন্ত এক লাস,

বাঁচতে গিয়ে মরতে হল, গলায় বেঁধে ফাঁস।

শ্বশুর বাড়ির দিকে সবাই আঙ্গুল যে ওঠায়,

সমাজ কিংবা বাপের বাড়ি,নেবে কি তার দায়?

যুক্তি, তর্ক, সঙ্গে-কুমন, মিটিং যথা-তথা,

দু দিন পরেই ভুলল সবাই  ময়নামতীর কথা।।

Loading