নিজস্ব প্রতিনিধি – গ্রামের নাম বিধ্যাং। খুবই ছোট একটা গ্রামটির মাত্র ছয় ৭ কিলোমিটার দূরেই রেলি নদী গিয়ে মিশেছে অপরূপ তিস্তার সঙ্গে। ছবির মতো সুন্দর গ্রামটিতে এ প্রকৃতি তার সব সৌন্দর্য যেন ঢেলে দিয়েছে। আঁকাবাঁকা নদী, দিগন্ত বিস্তৃত ওক, পাইন, দেবদারু গাছের অরণ্য, কুয়াশাচ্ছন্ন বাতাস, সরু রাস্তা, ছোট্ট ঘর-বাড়ি এবং নম্রস্বভাবের অতিথিপরায়ণ বাসিন্দারা মিলে জায়গাটাকে স্বর্গরাজ্য বানিয়ে তুলেছে। সারাদিন ধরে অনবরত পাখির কূজন এখানকার বড় প্রাপ্তি। পূর্ব হিমালয় পাদদেশের এই রূপকথার রাজ্য কালিম্পং শহরের খুব কাছেই। সন্ধ্যা নামলেই গ্রামবাসীরা সেদিনের মতো কাজকর্ম থেকে অবসর নেয়। অন্ধকার নেমে এলে নিস্তব্ধ হয়ে যায় পুরো এলাকা। রাতের নিস্তব্ধতা ভেদ করে ভেসে আসে নিশীথচারী পরিযায়ী পাখির আওয়াজ, পেঁচার ডাক কিংবা ঝিঁঝিঁ পোকার গুঞ্জন। এখানে জোনাকিরা নির্ভয়ে ঘুরে বেড়ায়, রাতে আকাশের কালো ক্যানভাসে একের পর এক ছবি এঁকে যায় তাদের চলাফেরা। বইয়ে পড়া ফ্যান্টাসির জগৎ চোখের সামনে মূর্ত হয়ে উঠবে, এই বুঝি আকাশ থেকে নেমে আসবে পরীরা! যারা উদার প্রকৃতির মাঝখানে হারিয়ে যেতে ভালোবাসেন, বিধ্যাং তাদের কাছে যুৎসই জায়গা মনে হবে। পূর্ণিমা রাতে পুরো গ্রাম চাঁদের রুপালি আলোয় যেন ডুবে থাকে। তখন মনে হবে, ছোটোবেলায় পড়া কোনো রূপকথা রাজ্যে আছেন আপনি! সমতল থেকে তিন হাজার ফুট উপরে বিধ্যাং। এখানকার প্রাণী এবং উদ্ভিদের বিচিত্রতাও আপনাকে মুগ্ধ করবে। স্থানীয়রা বাড়িতেই সবজি এবং ফলের চাষ করেন। পাশের কৃষিজমিতে চাষিরা শস্য ফলান। সেখানকার বিশাল সবুজ প্রান্তর দেখে আপনার শহুরে চোখ জুড়িয়ে যাবে। অসংখ্য পাখি, পোকামাকড় আর প্রজাপতির বাসস্থান এই বিধ্যাং। পাহাড়ে চড়া এবং নদীতে ভেসে বেড়ানোর মজাও আপনি নিতে পারবেন এখানে। নদীর উপর ঝুলে থাকা কাঠের সেতুটিও অনবদ্য। বিধ্যাং ভিউ পয়েন্ট থেকেই চোখে পড়ে অসাধারণ সুন্দর দার্জিলিং উপত্যকা। কাছেই রয়েছে শূকরশালা এবং গোশালা। জার্সি গরুও আছে সেখানে। স্থানীয় মানুষেরা একটা পুকুর খনন করে নিজেরাই ঝরনার জলে সেটিকে পরিপূর্ণ করেছেন। সেখানে তারা মাছের চাষ করে থাকেন। করোনায় এখন ঘর থেকে বের না হওয়াই ভালো। পৃথিবী আবারও সুস্থ হয়ে উঠলে ঘুরে আসতে পারেন বিধ্যাং থেকে। তাই আপনাকে প্রথমে যেতে হবে নিউ জলপাইগুড়ি। সেখান থেকে জিপ, ট্যাক্সি বা অন্য কোনো গাড়ি ভাড়া করে কালিম্পং যাওয়া যায়। সেখান থেকে ১৫ কিলোমিটার দূরে বিধ্যাং গ্রাম। বিধ্যাং গ্রামে হোম স্টে-র ব্যবস্থা আছে। একটা রিসোর্টও আছে; নাম ‘বিধ্যাং দুন ভ্যালি নেচার রিট্রিট’। সেখানে রয়েছে আধুনিক যাবতীয় সুযোগ-সুবিধা। এখানে বেড়ানোর প্রধান জায়গা হল রেলি নদীর তীর। বর্ষায় এই নদী দু’কূল ছাপিয়ে যায়, আবার শীতে এর পানি খুবই কমে আসে। বিধ্যাং থেকে মিনিট ১৫ হাঁটলে একটা সুন্দর কমলালেবু বাগিচার দেখা মিলবে।

Loading