নিজস্ব প্রতিনিধি-  বিশ্বব্যাপী খাদ্যদ্রব্যের মূল্য রেকর্ড হারে বেড়েছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও)। সংস্থাটি জানায়, কোভিড-১৯ মহামারীর মধ্যে খাদ্যদ্রব্যের মূল্য বৃদ্ধি পেয়ে গত মে মাসে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে, যা গত বছরের চেয়ে ৪০ শতাংশ বেশি।ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানায়, বিশ্বজুড়ে খাবারের দামের একটি বৃহৎ সূচক ব্যবহার করে জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও) এ পরিসংখ্যান বের করেছে। বৃহস্পতিবার প্রকাশিত ওই ইনডেক্সে দেখা গেছে, পুরো বিশ্বেই গত ১২ মাস ধরে টানা খাদ্যপণ্যের দাম বেড়েছে। তার মধ্যে মে মাসে খাদ্যপণ্যের দাম বৃদ্ধির সূচক সর্বোচ্চ ১২৭ দশমিক ১ পয়েন্টে গিয়ে দাঁড়িয়েছে। একমাস আগের (এপ্রিল) তুলনায় যা ৪ দশমিক ৮ শতাংশ বেশি এবং গত বছর মে মাসের তুলনায় ৩৯ দশমিক ৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এফএও-র ইনডেক্স অনুযায়ী ২০১০ সালের অক্টোবরের পর এটাই এক মাসে খাদ্যপণ্যের দাম বৃদ্ধির সর্বোচ্চ সূচক। খাদ্য পণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ার অন্যতম কারণ হিসেবে যোগান কমে যাওয়া কথা বলা হয়েছে। মহামারীর মধ্যে পরিবহন ও শ্রমিক সংকটে খাদ্য পণ্যের উৎপাদনে বিঘ্ন ঘটেছে। আর উৎপাদন কমে যাওয়ায় যোগানেও তার নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। এছাড়া কয়েকটি দেশে খাদ্যপণ্যের চাহিদাও বেড়ে গেছে।

যার ফলে বিশ্বের প্রায় সব দেশেই মুদ্রাস্ফ্রীতি বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। খাদ্যপণ্যের পেছনে মানুষের ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় মহামারী পরবর্তী বিশ্ব অর্থনীতির পুনরুদ্ধারেও তার উচ্চ প্রভাব পড়বে বলে মনে করেছেন বিশেষজ্ঞরা। বিশ্বজুড়ে খাদ্যশস্য, তেলবীজ, দুগ্ধজাত খাবার, মাংস এবং চিনির মত খাদ্যপণ্যের দাম অনুসরণ করে এফএও এই ইনডেক্স তৈরি করেছে। যে পাঁচটি উপাদানের উপর ভিত্তি করে এই ইনডেক্স তৈরি করা হয়েছে তার সবগুলোরই দাম বেড়েছে। যার ফলে ভেষজ তেল, শস্য এবং চিনির দাম বেড়েছে। করোনাভাইরাস সংক্রমণের বিস্তার রোধে বিশ্বের বেশিরভাগ দেশই নানা মেয়াদে লকডাউন দিয়েছে। লকডাউনে চলাচলের উপর নানা বিধিনিষেধ থাকায় খাদ্যপণ্যের বাজারজাতকরণ এবং সরবরাহে বিঘ্ন ঘটেছে। যোগানের অভাবে অনেক জায়গায় খাবারের সংকট দেখা দিয়েছে এবং দাম বেড়েছে।

বিশেষজ্ঞরা এ বিষয়ে সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, এখনো নানা দেশে লকডাউন চলছে। তারমধ্যে খাবারের উচ্চ চাহিদা এবং উৎপাদন কমে যাওয়া অব্যাহত থাকলে মু্দ্রাস্ফ্রীতি দেখা দেবে।

Loading